শাহজালাল রোহান, টেকজুম ডটটিভি// বাংলাদেশে এই প্রথম বারের মতো আগামী ৫ আগস্ট আয়োজিত হতে যাচ্ছে ‘বিজনেস ইনোভেশন সামিট’। এটি মূলত আইটি, নন-আইটি, টেকনিক্যাল , নন টেকনিক্যাল লোকদের জন্য উপযোগী করে সাজানো হয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের জন্য এটি হবে ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ইনোভেশন ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা আরিফুল হাসান অপু।

সম্প্রতি টেকজুম ডটটিভির সাথে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, এ অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্যে হচ্ছে তরুণদের মোটিভেট করে পরবর্তী জীবনে যাতে তারা সফল হতে পারে তার ব্যবস্থা করা। আর এই তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতেই তৈরি করা হয়েছে বাংলাদেশ ইনোভেশন ফোরাম। এর মাধ্যমে আমরা চাই সারা বাংলাদেশে একটি ইনোভেটিব কালচার তৈরি হোক । যার মাধ্যমে তারা নিত্য নতুন ইনোভেশন করবে। আর সেই ইনোভেশনের পথ ধরে দেশকে সারা বিশ্বের মাঝে মাথা উঁচু করার জন্য তারা সহায়তা করবে।

বেসিস স্টুডেন্ট ফোরামের সাবেক আহবায়ক বলেন, শুধু প্রযুক্তি নয় যেকোনো নতুন চিন্তা ও ধারণাকে স্বাগত জানানোর জন্য এই আয়োজন। আমরা এই সামিটে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে সভা-সেমিনারের আয়োজন করছি। যারা এন্টারপ্রেনার হতে চায়। আরেকটা হলো যারা করপোরেট ওয়ার্ল্ডে ভালো জব চায়। যারা ভালো প্রফেশনাল হতে চায়। কীভাবে তরুণরা জব পেতে পারেন, কীভাবে তারা ইন্টারভিউতে নিজেদের উপস্থাপন করবেন তা জানাতেও সামিটে আয়োজন থাকবে। এ ছাড়া ভালো এন্টারপ্রেনার হতে গেলে তাকে কী কী করতে হবে তাও জানিয়ে দেয়া হবে। বিশেষজ্ঞরা এ নিয়ে আলোচনা করবেন।

এ সামিট কৃষিবিদ ইনিস্টিউটটের অডিটোরিয়াম এ বসবে জানিয়ে অপু বলেন, যারা পড়াশোনা শেষ করে চাকরি চায় এবংযারা উদ্যোক্তা হতে চায় তাদের উপযোগী করে স্পিকার সাজানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, মাইক্রোসফট বাংলাদেশের প্রধান সোনিয়া বশির কবির, ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান সবুর খান, আমরা টেকনোলজিস হেড অব মার্কেটিং সোলায়মান সুখন, ডেল এর মাহাদি উজ জামান, বিজ্ঞাপন নির্মাতা অমিতাভ রেজা ছাড়াও অনেক স্পিকার থাকছে।

বেসিসের সাবেক পরিচালক বলেন, জীবনে যারা সফল হয়েছেন তারা অনেক চড়াই উৎরাই পার হয়েছে আজকে এই অবস্থানে এসেছেন এ রকম অনেকেই আছেন তাদের গল্প এদিন শেয়ার করবেন। এখান থেকে তাদের বাস্তব সম্মত জ্ঞান ছাত্র/ছাত্রীসহ সবাই জানতে পারবে বলে আশা রাখি।

সাক্ষাৎকারটির ভিডিও ধারণ করেছেন মিরাজুল ইসলাম জীবন।

 

 

এক নজেরে প্রতিষ্ঠাতা আরিফুল হাসান অপু।
তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ফেনীতে। সেখানেই ছেলেবেলা ও কৈশোর কেটেছে। ছোটবেলা থেকে বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ ছিল। স্কুলের বিজ্ঞান মেলায় অংশ নিতেন। খেলাধূলার মধ্যে প্রিয় ছিলো মার্শাল আর্ট। আর এই মার্শাল আর্ট আর বিজ্ঞানচর্চা জীবনের খুব অঙ্গাঙ্গিভাবে জাড়িত। পরবর্তিতে জড়িয়ে পড়েন তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসায়। একপর্যায়ে ছাত্রদের নিয়ে বাংলাদেশের বড় একটি সংগঠন বেসিস স্টুডেন্ট ফোরামের আহ্বায়ক ছিলেন। এছাড়া ২০১৪-১৬ সালে বেসিসের পরিচালক ছিলেন। পরবর্তিতে নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগিতায় পরপর তিনবার আহ্বায়ক ছিলেন। এরই মাঝে সংগঠক হিসেবে বাংলাদেশ থেকে প্রথমবার অফিসিয়ালি নাসা থেকে আমন্ত্রণ পেয়ে ঘুরে আসেন আমেরিকায়।

বাংলাদেশ ইনোভেশন ফোরাম কি করে?

এই মুহুর্তে মূলত তিনটি কাজকে ফোকাস করে কাজ করে বাংলাদেশ ইনোভেশন ফোরাম। প্রথমটা হলো গুড মেন্টরিং সাপোর্ট এবং এখানে ১৪০ জনের মেন্টর আছেন। যারা বাংলাদেশের বাইরে-ডেল, আইবিএম এবং গুগলে কাজ করেন। তারা বিভিন্ন পরমর্শ ও মডিভেটেড করে।

এছাড়াও উদ্ভাবন কমার্শিয়ালাইজেশন করতে গেলে প্যাটেন্ট কিংবা কপিরাইট করতে হয়। এসবের সাপোর্ট দেয় ইনোভেশন ফোরাম। এটি বাজারে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এ জন্য ইনোভেশন ফোরাম বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পার্টনারশিপ করছে। যাদের মধ্যে রয়েছে এটুআই, ডেটা সফট এবং লিডস করপোরেশন। এই প্রতিষ্ঠানগুলো তরুণদের ইনোভেশন বাস্তবায়ন করতে সমর্থন ও সহযোগিতা করবে।

টেকজুম/২১জুলাই/এসআর/এমআইজে